বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য জীবনবৃত্তান্ত, জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ইমেইল করুন [email protected]  এই ঠিকানায়

মেহেরপুরে জাহিরুলের তরমুজ চাষ মুগ্ধ করেছে কৃষি বিভাগকে

গাংনী প্রতিনিধি / ২৩৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞাপন

ইউটিউব দেখে মাচা পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন থাইল্যান্ড এর হাইব্রিড তরমুজ (তৃপ্তি) চাষে মেহেরপুরের জাহিরুল ইসলামের সাফল্য। মুগ্ধ করেছে জেলা কৃষি বিভাগকে। এ প্রথম মেহেরপুরের মাটিতে মাচা পদ্ধতিতে ‘তৃপ্তি’ জাতের হলুদ রংয়ের

তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের মাঠে জাহিরুল ইসলাম তরমুজ চাষ করেন। জাহিরুল উজলপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাচায় ঝুলছে তৃপ্তি (হাইব্রিড) জাতের হলুদ রঙের তরমুজ।এই লাভজনক ফসল ৬৫-৭০দিনে সংগ্রহ করা যায়। ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ বপন করলে বৈশাখে রমজান মাসে ফসল উঠলে
বিঘা প্রতি প্রায় ১লক্ষ টাকার বেশী লাভ হতে পারে।সেপ্টেম্বর শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বীজ বপন করলে নভেম্বর মাসের শেষে ফসল পাওয়া যায়। তখন বাজারে ফল কম থাকে। ফলে তরমুজ আবাদ করে সহজেই লাভ করা যায়।তাপদাহের মধ্যে এখন তরমুজের ব্যাপক চাহিদা। জমি থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে তরমুজ। দেশি তরমুজ মাটিতে থাকে। এ তরমুজ মাচায় চাষ করতে হয়।

তরমুজ চাষি জাহিরুল ইসলাম জানান- মাচায় ঝুলে থাকার কারণে তরমুজের ওজন বাড়ায় ছিঁড়ে পড়ে যাবে। এজন্য যখন ২শ গ্রাম ওজন হয় তখন প্রতিটি তরমুজ নেটের ব্যাগ দিয়ে মাচার সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। তরমুজ রোপণের পর থেকে ৬০ থেকে
সর্বোচ্চ ৭০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। তিনি ২৫ কাঠ জমিতে এ তরমুজ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। ২ লাখ টাকার বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন এব কৃষক।
তিনি আরও জানান, নিরাপদ ফল উৎপাদন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনায় তৃপ্তি (হাইব্রিড) জাতের তরমুজ মারাত্মক সুস্বাদু। প্রাকৃতিক
দূর্যোগ না থাকার কারণে ফলন হয়েছে ভালো। অসময়ের এ তরমুজের ব্যাপক চাহিদা বাজারে। জমি থেকে প্রতিমণ তরমুজ ১৬’শ টাকা থেকে ১৮’শ টাকা দরে ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

এলাকার চাষীরা জানান, আমরা এই ধরনের তরমুজ আগে কখনো দেখিনি। জাহিরুল ইসলাম এই প্রথম হলুদ রংয়ের তরমুজের চাষ করেছে। এই ধরনের চাষ দেখে আমাদের ভালো লাগছে। এধরনের চাষ আমরা কৃষি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে আগামী বছর করবো।
উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও সুপাইভাইজার কামারুল ইসলাম জানান, জাহিরুল ইসলাম ইউটিউব থেকে দেখে আমাকে বলে এই জাতের তরমুজ চাষ করতে চাই। সেই অনুযায়ী আমিও ভালো করে দেখে কৃষি অফিসের সাথে কথা বলে এই খানে একটি প্রজেক্ট তৈরীতে সহযোগীতা করেছি। বর্তমান করোনাকালে যে বাজার মূল্য রয়েছে তাতে চাষী অনেক লাভবান হবে বলে আমি মনে করছি।

মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নাসরিন পারভিন জানান, অসময়ে তরমুজের চাষ করে জাহিরুল ইসলাম যে সাফল্য পেয়েছে আমরা এতে খুশি। সাধারণত তরমুজ বৃষ্টির মৌসুমের আগেই শেষ হয়ে যায়। ১ বিঘা
জমিতে সবোর্চ্চ সাত থেকে আটটি বেড তৈরি করা যাবে। চারা রোপণের মাত্র ৩০ দিনেই পুরো মাচায় গাছ উঠে যাবে এবং ফুল ও ফল ধরা
শুরু হবে। বাকি ৩০ দিনের মধ্যে তরমুজ তোলার উপযুক্ত হয়ে যাবে। সকাল বেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সাথে সাথে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়। তবে জমিতে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। এ তরমুজ অক্টোবর মাসে চাষ করা লাভজনক। কারণ ডিসেম্বরে সাধারণত দেশী ফল তেমন পাওয়া যায় না।
এসময় বাজারজাত করতে পারলে আর্থিক লাভবান নিশ্চিত। তিনি আরও জানান, হাইব্রিড জাতের তরমুজ বীজ দেশের বাইরে থেকে আসায় বীজের দাম বেশি। বারি উদ্বাবিত দুইটি হাইব্রিড জাত লাল ও হলুদ এর বীজ রাখা যায়। এটা সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমে যাবে


এ জাতীয় আরো খবর ....

বিজ্ঞাপনের জায়গা

বিজ্ঞাপনের জায়গা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর